২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০ বৈশাখ ১৪২৫, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
English Site Archive Login
 
Space For Ads
MENU
MENU
JOBAIDBD.COM

টাকা জমাবেন? চমৎকার এই উপায়গুলো জেনে নিন

ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:১০ এ. এম. জেনিউজ বিডি ডট কম


দেখতে দেখতে এই মাসটা শেষের দিকে চলে এলো। এমনকি শেষ হতে চলেছে এই বছরটাও। পুরো এই বছরটা ধরে আনুমানিক কত টাকা জমিয়েছেন আপনি? প্রশ্নটা পরে অপ্রস্তুত বোধ না করে একটু সময় নিয়ে ভাবুন তো। হোক নিজের স্বল্প আয়, তবুও সেখান থেকে কত টাকা সঞ্চয় করতে পেরেছেন আপনি! হিসেবের খাতায় যদি শুধু শূন্যের অবস্থা বিরাজ করে তবে ঠিক এই মুহূর্ত থেকেই সচেতন হতে হবে আপনাকে। কারণ শুধুমাত্র আয় করাই যথেষ্ট নয়, আপনার ব্যয়ের হিসেবটাও ঠিক রাখতে হবে এবং সাথে সঞ্চয়ের ঝুলিও করতে হবে ভারী।


টাকা জমানোর বা সঞ্চয় করার তেমন অভিজ্ঞতা নেই বলে হিমশিম খাচ্ছেন এই ভেবে যে, কীভাবে টাকা জমানো শুরু করবেন? কোন চিন্তাই নেই! খুবই সহজ কিছু উপায় মেনে চলতে পারলে এবং বাজেট করতে শিখে গেলে টাকা জমানো কোন কঠিন ব্যাপার নয়। জেনে নিন টাকা জমানোর খুবই চমৎকার এবং অসাধারণ কয়েকটি উপায়।


১/ নিজের ব্যয়ের একটি বাজেট তৈরি করুন

কীভাবে আপনার ব্যয়ের বাজেট তৈরি করবেন বলে ভাবছেন? যে মাস থেকে বাজেট শুরু করতে চাচ্ছেন সে মাসের শুরুতেই আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার রিসিটটি রেখে দিন। শুধু প্রথম দিনেরটাই নয়, পুরো মাসেরটা এইভাবে একসাথে জমিয়ে ফেলুন। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে, জামা কিনতে গেলে, দরকারি জিনিস কিনতে গেলে- সব জায়গার রিসিট জমিয়ে রেখে মাস শেষে সেগুলো নিয়ে বসুন। এরপর আপনি নিজেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে এবং মেলাতে পারবেন আপনার টাকা কোন খাতে কম বা বেশি খরচ হচ্ছে। সেই হিসাব করে পরের মাসের জন্য বাজেট ঠিক করে ফেলুন।


২/ আলাদা খামে খরচের টাকা গুছিয়ে রাখুন

আপনার খরচের হাত খুব যদি বেশী হয় তবে সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি খুবই কাজে দেবে। প্রতি মাসের শুরুতেই আলাদা খামে খরচ করার জন্যে টাকা গুছিয়ে তুলে রাখুন। প্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন খাতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খামে টাকা রাখুন, যেমন- দরকারি জিনিসপত্র কেনার জন্য আলাদা খাম, নিজের প্রিয় কিছু কেনার জন্য আলাদা খাম, বই কেনার জন্য আলাদা খাম! কোন খামের টাকা শেষ হয়ে গেলে সেই মাসের জন্য সেটাই আপনার বাজেট। এর বাইরে আর আপনি খরচ করতে পারবেন না।


৩/ টাকা জমানোর ক্ষেত্রে ছোটখাটো পরিকল্পনা করুন

টাকা জমানোর অভ্যাসটা খুব ছোটখাটো ভাবে শুরু করতে পারেন আপনি। মাসের প্রথমেই আপনার আয়ের একটা ছোট অংশ আলাদা করে রাখুন জমানোর জন্যে। এরপর প্রতিদিনের খরচ থেকে পঞ্চাশ-একশ-দুইশ টাকা বাঁচানোর চেষ্টা করুন এবং একটা পুরো সপ্তাহ শেষে কত টাকা বাঁচল সেটার হিসেব রাখুন। সেটার উপর ভিত্তি করে পরবর্তি সপ্তাহের জন্য টাকা বাঁচানোর পরিকল্পনা করুন।


৪/ বোনাসের সম্পূর্ণ টাকা খরচ করবেন না

প্রতিটা অফিসেই বিভিন্ন উপলক্ষ্য এবং পারফর্মেন্স-এর উপরে বোনাস দিয়ে থাকে। বোনাস এর টাকা হাতে পেয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই খুশি হয়ে সকল টাকা একবারেই খরচ করে ফেলবেন না। বোনাসের কিছু টাকা আলাদা করে জমানোর জন্যে রেখে দিন। ভবিষ্যৎ এ কাজে আসবে।


৫/ খুচরা টাকাগুলো আলাদা করে রাখুন

বিকেলে বাইরে বের হলেই চা, কেক বিস্কুট কিংবা পুরি খেয়ে টাকা দেওয়ার পরেই একগাদা খুচরা টাকা হাতে চলে আসে। বাসে কিংবা রিকশাতে যাতায়াতের সময়েও এমন বহু খুচরা টাকা জমে যায় হাতে। এই দুই-পাঁচ-দশ কিংবা বিশ টাকার নোটগুলো কী করেন আপনি? নিজেও হয়ত ঠিকমতো বলতে পারবেন না। তাই এরপর থেকে এমন ভাংতি টাকাগুলো আলাদা করে রেখে দিন কোথাও। মাস শেষে সবগুলো ভাংতি টাকা গুছিয়ে নিয়ে দেখুন কত টাকা জমিয়ে ফেলেছেন আপনি!


৬/ চব্বিশ ঘন্টায় কত টাকা খরচ করবেন সেটা ঠিক করে নিন

প্রতিদিনে আপনার কোন কোন কাজের জন্য কত টাকা লাগে সেটা কি আপনি হিসেব রাখছেন? যদি না রাখেন তবে প্রতিদিনের জন্য ছোট্ট করে একটি বাজেট করে ফেলুন। প্রতিদিন কত টাকা খরচ করবেন এবং কোন কোন খাতে খরচ করবেন সেটা ঠিক করে রাখুন এবং সেই পরিমাণ অনুযায়ী খরচ করুন। মোট কথা, একদিনের জন্য আপনি যত টাকা ঠিক করবেন, ঠিক সেই পরিমাণ অথবা তার চেয়ে কম টাকা খরচ করবেন, তার বেশী এক টাকাও নয়!


৭/ ঘণ্টায় হিসেব করুন আপনার পারিশ্রমিক

ধরুন আপনার একটি ব্যাগ খুব বেশী পছন্দ হয়ে গেছে। যার দাম লেখা রয়েছে পনের’শ টাকা। এখন আপনি ঘণ্টা হিসেবে আপনার পারিশ্রমিক বের করুন। ঘণ্টা হিসেবে আপনার পারিশ্রমিক যদি হয় একশত টাকা, তবে আপনি হিসেব করে এবং বিবেচনা করে দেখুন পনের’শ টাকা খরচ করে যে ব্যাগটি আপনি কেনার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, সেটি আপনার পনের ঘন্টার পারিশ্রমিকের সমান মূল্যবান কিনা!


৮/ অনলাইনের কেনাকাটার পেইজ আনলাইক করুন

শুনতে একটু অদ্ভূত লাগলেও এটা আসলেও খুবই চমৎকার কাজে দেয়। অনেক সময় আমরা অনলাইনের পেইজে সুন্দর জিনিসের ছবি দেখে এমন জিনিস অর্ডার করে ফেলি, যা হয়ত আমাদের একেবারেই প্রয়োজন নেই। খরচ এর হিসেবটা এভাবেই বেড়ে যায় অনেক। তাই অনলাইনের কিছু পেইজ আনলাইক এবং কেনাবেচার কিছু গ্রুপ লীভ দিলে দিনশেষে আপনি নিজেই লাভবান হবেন।


৯/ খরচবিহীন একটা দিন কাটানোর চেষ্টা করুন

উপরের একটা লাইন পড়েই ভ্রু কুঁচকে না ফেলে বরং ভাবুন তো, সপ্তাহে যদি একটা দিন আপনি এক্কেবারে খরচবিহীন ভাবে কাটাতে পারেন, তবে একদিনে কতগুলো টাকা বাঁচাতে পারবেন আপনি? উত্তরটা যদি আপনার মনে একটু হলেও চিন্তার উদ্রেক করে তবে আগামী মাস থেকেই পরিকল্পনা করুন, সপ্তাহে একটা দিন বিনা খরচে কাটানোর জন্য।


১০/ অফিসে দুপুরের খাবারটা বাসা থেকেই নিয়ে যাবার চেষ্টা করুন

অফিসে দুপুরের খাবারটা হয়ত ক্যাটারিং সার্ভিস কিংবা বাইরে থেকে আনিয়ে খাচ্ছেন। কিন্তু এর জন্যে প্রতিদিন আপনার কত টাকা খরচ হচ্ছে? অবশ্য একশত টাকা কিংবা তার বেশী। যা মাস শেষে প্রায় আড়াই হাজার টাকা কিংবা তারও বেশী হয়ে যায়। কিন্তু, এই দুপুরের খাবারটা আপনি যদি একটু কষ্ট করে বাসা থেকেই বানিয়ে নিয়ে যান তবে আপনার খরচ কমে যাবে প্রায় অর্ধেক। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন বাসা থেকেই দুপুরের খাবারটি সাথে করে নিয়ে যেতে।


১১/ প্রতি মাসে একবার করে বাইরে খাওয়া কমিয়ে আনুন

একা, পরিবারের সাথে, বন্ধুর সাথে কিংবা ভালোবাসার মানুষের সাথে প্রতি মাসেই নিশ্চয় অনেকবার করে বাইরে খাওয়াদাওয়া করা হয়ে আপনার। আগামী মাস থেকে চেষ্টা করুন অন্তত একবার বাইরে কম খাওয়ার জন্য। প্রতিবার বাইরে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেই প্রায় অনেকগুলো টাকা খরচ হয়ে যায় একবারেই। তাই চেষ্টা করুন সেই সংখ্যাটা কে কমিয়ে আনার জন্য।  


১২/ জরুরি অবস্থার জন্য অর্থ সঞ্চয় করুন

জরুরি অবস্থার জন্য টাকা জমিয়ে রাখতে পারলে সেটা আপনার ভবিষ্যৎ এর জন্য দারুণ কাজে আসবে। দেখা গেছে যে, মধ্যম আয়ের পরিবার যারা জরুরি অবস্থার জন্য কম টাকা সঞ্চয় করেন তাদের থেকে, কম টাকা আয় করা পরিবার যারা জরুরি অবস্থার জন্য বেশী টাকা সঞ্চয় করে রাখে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকে।


আপনার কষ্ট করে আয় করা টাকা অবশ্যই আপনি উপভোগ করবেন, তবে বুঝে-শুনে এবং হিসেব করে। কারণ, একদিন একটু কষ্ট করে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারলে দিনশেষে লাভবান হবেন আপনি নিজেই। আপনার নিজের কোন প্রয়োজনে, খুব জরুরি কোন দরকারে স্বাচ্ছন্দ্যে খরচ করতে পারবেন জমানো টাকা থেকেই। তাই নিজের সুরক্ষিত একটা ভবিষ্যৎ এর জন্য নিজের খরচকে গুছিয়ে আনুন আজকে থেকেই।


সূত্র: America Saves. 

ব্রেকিং নিউজ: