২১ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
English Site Archive Login
 
Space For Ads
MENU
MENU
শিরোনাম
JOBAIDBD.COM

সিঙ্গাপুরেও জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৯:৪৯ পি. এম. জেনিউজ বিডি ডট কম


মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে জিয়া পরিবার এবং বিএনপির দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুরের ট্রেড ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এস টি ডি বি এবং ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড যে ১৮ টি বিদেশি কোম্পানিতে অবৈধ সম্পদ আছে বলে সন্দেহ করছে, তার চারটিই জিয়া পরিবারের এবং বিএনপির অন্তত দুজন নেতার নাম জড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক ভাবে ট্রেড ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ধারণা করছে আট কোটি সিঙ্গাপুর ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় অন্তত ৫০৪ কোটি টাকা অবৈধ পন্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

অবশ্য, সিঙ্গাপুরে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদ থাকার ঘটনা এটি প্রথম নয়। সিমেন্স এবং চায়না হারবার থেকে বেগম জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান ঘুষ নিয়েছিলেন। ঘুষের টাকা রেখেছিলেন সিঙ্গাপুরে। ২৩ নভেম্বর ২০১২ সালে ওই অবৈধ অর্থ সিঙ্গাপুরের আদালতের সহায়তায় বাংলাদেশর দুর্নীতি দমন কমিশন উদ্ধার করেছিল। সিঙ্গাপুর থেকে ১৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনে। যেটি ফেয়ার হিল কনসালটেন্সিতে অবৈধভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন ফেয়ার হিল কনসালটেন্সির কর্ণধার। কোকোর এই অর্থ পাচারের ঘটনায় প্রথম তদন্ত শুরু করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। অনৈতিক এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ৪ জানুয়ারি ২০০৯ সালে মার্কিন ডিস্ট্রিক কোর্ট কলাম্বিয়ায় একটি মামলা হয়। ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিস আইনের আওতায় করা মামলায় বলা হয়েছে, দুবাই থেকে মার্কিন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরাফাত রহমান কোকোর ৩ মিলিয়ন ডলার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ জারি করে। মামলার রায়ে বলা হয়, চট্রগ্রামে নিউ ডবল মুরিং কন্টেইনারের জন্য চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এবং রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকে যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজের জন্য সিমেন্স কোম্পানি বেগম জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ওই টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৭ মার্চ ২০০৯ সালে কোকো এবং প্রয়াত কর্নেল আকবরের ছেলে সায়মনের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে ওই অবৈধ অর্থ সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত আসে।

সম্প্রতি প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুর সরকার বিদেশি বিনিয়োগের কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিরীক্ষা করছে। এই নিরীক্ষায় ১৮টি সন্দেহভাজন কোম্পানি পাওয়া গেছে। এই কোম্পানিগুলো ট্যাক্স হেভেন দ্বীপ বা দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সিঙ্গাপুরে ব্যবসা করছে। এর মধ্যে অন্তত চারটিতে জিয়া পরিবার এবং বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এশিয়া স্যাটেলাইট টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেড বারমুডায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি কোম্পানি। এই কোম্পানি সিঙ্গাপুরে ব্যবসা করছে। দেখা যায়, ২০০৪ সালে বাংলাদেশের প্যাসিফিক গ্রুপ কোম্পানির ৪ শতাংশ শেয়ার কেনে। শেয়ার কেনার দুদিন পরই শেয়ারগুলো ওয়ান গ্রুপের নামে হস্তান্তর করে। উল্লেখ্য, প্যাসিফিক গ্রুপ হলো বিএনপি নেতা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের। আর ওয়ান গ্রুপের কাগজে কলমে মালিক গিয়াস উদ্দিন আল মামুন হলেও আসল মালিক তারেক জিয়া। ৪ শতাংশ শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য তিন কোটি সিঙ্গাপুর ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ১৮৬ কোটি টাকা)। ট্রেড ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া কনটেন্ট ডটকম লিমিটেড ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত, যা সিঙ্গাপুরে ব্যবসা করে। এই কোম্পানির দুই কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের শেয়ারের মালিক মাল্টি মোড লিমিটেড। মাল্টি মোড বিএনপি নেতা আবদুল আওয়াল মিন্টুর প্রতিষ্ঠান। ওই শেয়ারের অংশের বিপরীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাল্টি মোড প্রায় এক কোটি সিঙ্গাপুর ডলার লন্ডনে তারেক জিয়ার ব্যাংকে ট্রান্সফার করেছে। অর্থাৎ ৭ বছরে ৬২ কোটি টাকা গেছে তারেক জিয়ার কাছে। আননজেল-আমেরিকান শিপ হোল্ডিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কেইম্যান আইল্যান্ডে। ২০০৩ সালে এই কোম্পানির দুই কোটি সিঙ্গাপুর ডলার সম পরিমাণ শেয়ার (বাংলাদেশি টাকায় ১২৪ কোটি টাকা) কিনে নেন আরাফাত রহমান কোকো। কোকো মারা গেলেও ওই শেয়ার এখনো হস্তান্তর হয়নি। এশিয়া প্যাসিফিক রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড বারমুডায় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি, সিঙ্গাপুরে ব্যবসা করে। ওই কোম্পানির অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশের প্যাসিফিক গ্রুপ, ওয়ানগ্রুপ এবং সিলভার লাইন শিপিং। তিনটি কোম্পানি বিএনপির।

ব্রেকিং নিউজ: