২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
English Site Archive Login
 
Space For Ads
MENU
MENU
শিরোনাম
JOBAIDBD.COM

টাকা না দেওয়াতে ধর্ষণ মামলা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০১৮ ০৯:৫১ এ. এম. জেনিউজ বিডি ডট কম


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিয়াদ সিদ্দিকীর (প্রাণ) বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি, সোমবার শাহবাগ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভোলার এক ব্যক্তি। বাদির অভিযোগ, ডা. প্রাণ তার মেয়েকে কৌশলে ধর্ষণ করেছেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ডা. প্রাণের কাছে ওই তরুনী টাকা দাবি করেন। এমনকি তাকে বিয়েরও প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতে ডা. প্রাণ রাজি না হওয়ার পর ধর্ষনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভোলার ওই তরুনীর বাবা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১ টা ৮ মিনিটে ওই তরুনী তাদের পারিবারিক নম্বর থেকে ডা. প্রাণের মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠান। তাতে তিনি ডা. প্রাণের কাছে টাকা দাবি করেন। না হলে মামলা করার হুমকি দেন। সবশেষে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দেন ওই তরুনী।

এরপর দিন, ১ জানুয়ারি রাত ১০টা ১৩ মিনিটে ডা. প্রাণের মোবাইলে আরেকটি মেসেজ আসে। তাতে লেখা হয়, ‘ডা. রিয়াদ, বিষয়টি এত হালকা ভাবে নিয়ে অনেক বড় ভুল করলেন। কালকে সারাদিন কোন যোগাযোগ করেননি, ফোন বন্ধ রেখেছেন। আগামীকালও কোন যোগাযোগ না করলে আমরা মামলা করতে বাধ্য হবো।’

দ্বিতীয় মেসেজটি আসে ওই তরুনীর ভাইয়ের নম্বর থেকে। দুটি মেসেজেরই যথাযথ প্রমান পাওয়া গেছে।

অথচ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘গত ৩ জানুয়ারি বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ডা. প্রাণের কাছে আসেন ওই তরুণী। অন্য ডাক্তারদের দেখাতে হবে বলে তার বাবাকে বসিয়ে রেখে ডা. প্রাণ তাকে বিএসএমএমইউ’র বি ব্লকের চারতলার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ৪ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) ভর্তি হন ওই তরুণী।’

এরও ৪ দিন পরে, সোমবার (৮ জানুয়ারি) মেয়েকে নিয়ে শাহবাগ থানায় এসে মামলা করেন তার বাবা।

এ নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রাণ বলেন, ‘বিএসএমএমইউ -এ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন আমি ভোলায় রোগী দেখি। সেখানেই মাস তিনেক আগে ওই তরুণী আমার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। এরপর প্রতিমাসে একবার করে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর তারা ঢাকায় আসে অন্য ডাক্তার দেখাবে বলে। এসে আমার সাথে যোগাযোগ করে। আমি তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি তবে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। এরপর তারা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে ও আমার কাছে টাকা চায়। কিন্তু আমি তা দিতে রাজি হয়নি। এরপর তারা মামলা করে।’

এ নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক বুধবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তার ফেসবুকে লেখেন, ‘বন্ধুরা, সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আমাকে নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে, তাতে আমি খুব মর্মাহত, সারা জীবন সততার সাথে চিকিৎসা ও জীবনযাপন করেছি, আমাকে টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল তাতে আমি সাড়া দেইনি বলে আজ ওই কুচক্রী মহল আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। বন্ধুরা আপনারা আমাকে চেনেন আমি কেমন, আজ মহান ডাক্তারি পেশার উপর বারবার হামলা হচ্ছে... আমার আইনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা আছে.. সত্য প্রমাণিত হবে..।’

মঙ্গলবার ওই তরুনী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই ঘটনার ভিডিও আছে জানিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কাউকে না বলার জন্য বলে ডাক্তার। সে কারণে আমি এতদিন কাউকে কিছু বলিনি।’

মামলার বাদির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বাদি বা ওই তরুনীকে পাওয়া যায়নি। তবে ওই তরুনীর যেই ভাই ডা. প্রাণকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তিনি বলেন, ‘সে (তরুনী) অসুস্থ। এ জন্য এখন কথা বলতে পারছে না। আমার খুব শিগগিরই, দুই-একদিনের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত আপনাদের জানাব।’

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসএমএমইউ’র একজন সহকারী অধ্যাপক  বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি মনে হচ্ছে সাজানো। তরুনী বলছেন, তাকে অক্টোবর মাসে ধর্ষণ করা হয়। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে তিনমাস পরে আবার তিনি কেন ওই একই চিকিৎসকের কাছে আসলেন? আবার, তার ধর্ষক তাকে কোন নির্জন ঘরে ডাকলেন আর তিনি চলে গেলেন, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা? যদি প্রথম দুটি ঘটনাও সত্যি হয়েই থাকে, তাহলে প্রশ্ন হলো, তিনি ঘটনার পরপরই কেন কাউকে কিছু বললেন না বা থানায় গেলেন না? ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গেলেন আর তারও চারদিন পর থানায় গেলেন কেন?

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন মামলার কথা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘গত অক্টোবর মাসে চিকিৎসার জন্য গেলে ডা. প্রাণ তাকে কৌশলে ধর্ষণ করেন বলে ওই তরুণীর বাবা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডা. রিয়াদকেও খোঁজা হচ্ছে।’

ডা. প্রাণ এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমাকে খুঁজতে হবে কেন? আদালত আদেশ দিলে আমি নিজেই গিয়ে হাজির হবো। আমি কোন অপরাধ করিনি তাই আমার লুকিয়ে থাকার প্রশ্নও উঠে না।’

রিয়াদ সিদ্দিকী বিএসএমএমইউ’র একজন মেডিকেল অফিসার এবং চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য।

এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। সে যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আমরা নিজেরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তবে নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পান সে বিষয়টিও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।’

সোমবার মামলা হলেও তা গণমাধ্যমে আসে মঙ্গলবার। এরপর তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সার্বিক ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নানা রকম মন্তব্য করছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

ব্রেকিং নিউজ: