২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
English Site Archive Login
 
Space For Ads
MENU
MENU
শিরোনাম
JOBAIDBD.COM

লালমনিরহাটে নিপা ট্রাজেডির ৭ বছর

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০৬:১৩ পি. এম. জেনিউজ বিডি ডট কম


আজিজুল ইসলাম বারী::

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নিপা ট্রাজেডিতে প্রাণ হারায় ২৬ জন। দীর্ঘ ৭ বছর পরেও এসব প্রাণহানির কথা আজও ভোলেননি এলাকাবাসী। শুধুমাত্র সচেতনার অভাবে দীর্ঘ ওই লাশের মিছিলে যুক্ত হয়েছিল অবুঝ শিশু, সদ্য বিবাহীত যুবকসহ মহিলারা। আর তাই আপনজনদের হারানোর ব্যাথা আজও তাদের তাড়া করছে স্বজনদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে দেখা দেয় অজানা ‘জ্বর’। জ্বরে সংক্রামিত হওয়ার তিন থেকে চার দিনের মধ্যে লোকজন ঢলে পড়তে থাকেন মৃত্যুর কোলে। পড়ে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরাক্ষা করে বের করেন এটি আসলে এনকেফালাইটিস। যা নিপা ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। আর এই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণে কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশু, মহিলাসহ বিভিন্ন বয়সী অন্তত ২৬ জন মানুষ প্রাণ হারায়। যদিও সরকারিভাবে এ মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ জন বলে দাবি করা হয়। আর ৭ বছর আগে ঘটে যাওয়া মানবিক বির্পযয়ের সেই দুঃসহস্মৃতি আজও ভোলেনি ওই এলাকার মানুষ। 

হাতীবান্ধা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক অশোক ঘোষ-তাপসী ঘোষ দম্পতি ২০১১ সালের এই সময়ে নিপা ভাইরাসের কারণে হারিয়েছিলেন তাদের দু’সন্তানকে। অপর দিকে একই অবস্থা বিরাজ করছে দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের কাজী জাহাঙ্গীরের পরিবারেও। তিনিও এই ঘাতক ভাইরাসে হারিয়েছিলেন তার ছোট্টা দুই মেয়ে জয়ী ও সর্বোকে। শুধু ওই অবুঝ শিশুরাই নয় হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগে লিপি বেগম হারিয়েছে তার স্বামীকে। বিয়ের ১১ মাস পর ওই নিপা ভাইরাসের আক্রমণে অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে ছেড়ে চির বিদায় নেন আজিজুল (২৭)। কিছুদিন পর লিপির কোলে ফুটফুটে এক শিশুর জন্ম হয়েছে ঠিকই কিন্তু বাবা নামক সেই প্রিয় ডাক অধরাই থেকে গেল তার। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাতীবান্ধায় আসা রোগ তত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞদল জানিয়েছিলেন, যেহেতু নিপা ভাইরাসের বাহক বাঁদুড় তাই কোনো এলাকায় একবার এ রোগ দেখা দিলে পরবর্তি কয়েকটি বছর শীতের মৌসুমে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার আশংকা থাকে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনতাই এই ঘাতক নিপা থেকে রক্ষার একমাত্র পথ বলে জানান বিশেষজ্ঞ দলটি। সেই থেকে পরবর্তী বছরগুলিতেও বেশ প্রচার-প্রচারণা হওয়ায় জনসাধারণ মোটামোটি সর্তক হয়ে ওঠেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এ বছর স্বাস্থ্য সচেতনায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি।

ব্রেকিং নিউজ: