১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
English Site Archive Login
 
Space For Ads
MENU
MENU
শিরোনাম
JOBAIDBD.COM

কোটা বাতিলের ঘোষনা এবং অত:পর...

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৩৬ এ. এম. জেনিউজ বিডি ডট কম


:: মো: হাফিজুল ইসলাম হাফিজ ::

সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে সরকারকে কোটা সিস্টেম চালুর যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেটা ডিরেক্টরি, ম্যান্ডেটরি কিছু না। অর্থাৎ, কোটা থাকবে কি থাকবে না সেটা সরকারের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সরকার চাইলে কোটা চালু করতেও পারে, বাতিলও করতে পারে। সরকার যদি সম্পূর্ন কোটা বাতিল করে দেয় সেটা কখনোই অসাংবিধানিক হবে না। সুতরাং যারা ভয় পাচ্ছেন, সম্পূর্ন কোটা বাতিল করে দিলে হাইকোর্টে রিট হবে এবং হাইকোর্টর নির্দেশনা অনুসারে আবার কোটা ফেরত আসবে, এহেন শংকা অমূলক। সম্পূর্ন কোটা বাতিল অসাংবিধানিক নয়।

আর কিছুদিন আগেই হাইকোর্ট ঢাবির আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী সহ আরো ৪/৫ জনের রিটের প্রেক্ষিতে বলেই দিছে কোটা থাকবে কি থাকবে না এটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের ও সরকারের এখতিয়ার।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে বলেছেন মেয়েরা কোটা চাইনা, জেলার কোটা চাইনা কেউ যেহেতু চাইনা তাহলে একেবারে না থাকাই ভালো। কোটা থাকলে কাল আবার সংস্কার করতে আরেক দল আসবে। তার চেয়ে কোটা না থাকাই ভালো।সরকারী চাকুরীতে কোন কোটাই থাকবে না। শতভাগ মেধা হতে নিয়োগ দেয়া হবে। দরকার হলে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী,প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য অনগ্রসরদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুতরাং চিলে কান নিয়েছে বলে, আগেই যারা একজন মারাগেছে গুজব ছড়িয়ে মাননীয় ভিসি স্যারের বাসায় তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। যারা সুফিয়া কামাল হলে এক মেয়ের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে গুজব ছড়িয়ে ঐ হলে আক্রমন করতে ইন্ধন যুগিয়েছে। যারা ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি নেতৃত্ব দিয়ে জিয়া হলের আন্দোলন কারিদের উপর হামলা করেছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে হলে আক্রমনের ইন্ধন যুগিয়েছে। এখনো যারা বিভিন্ন উষ্কানীমূলক কথা বলছে তাদের উদ্দেশ্য অবশ্যই ভিন্ন কিছু। কারণ সধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের যে যৌক্তিক দাবি ৯০% মেধা কোটায় নিয়োগের বিষয় আন্দোলন করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেটা সম্পূর্ণ মেধা কোটায় নিয়োগের কথা বলে গেছেন। সুতারাং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শতভাগের বেশি সফল হয়েছে। কিন্তু যারা শিক্ষার্থীদের আবেগটাকে কাজে লাগিয়ে এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে তাদের নিজেদের উদ্দেশ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছে তারা এখনো সফল হতে পারেনি।

তাই তারা এখনো বিষবাষ্প ছড়িয়ে,বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদেরকে ভুলপথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। ভুলে যাবেন না, কারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এই ক্যাম্পাসে একটা লাশ চাই। কারা মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে আপনার আমার ক্যাম্পাসকে, দেশকে অশান্ত করতে চাই। প্রিয় মেধাবী ভাই- বোনেরা আমরা নিশ্চয় অমাবস্যার রাতে চাঁদের দেশে ফুলবাবু দেখার কাহিনী ভুলি নাই।

তাই আপনার আমার সকলের উচিত ঐ সব ফন্দিবাজদের কথায় কান না দিয়ে পড়ার টেবিল, ক্লাস ও পরীক্ষার হলে ফেরা। সাথে সাথে সবাই সতর্ক থাকা যাতে করে আর কেউ নতুন করে সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে আপনার আমার আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুল পথে পরিচালিত না করতে পারে। তাদের দেশ ও সরকার বিরোধী কাজে আপনাকে আমাকে দাবার গুটির চাল হিসাবে ব্যবহার না করতে পারে। আশা করি সবাই এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। তার পরও কেউ যদি জলঘোলা করার চেষ্টা করেন তাহলে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেবার আহবান রইলো সকল মেধাবি শিক্ষার্থীদের প্রতি,সাধারণ মানুষের প্রতি, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের প্রতি।

আস্থা রাখুন জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


লেখক: হাফিজুল ইসলাম হাফিজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ৪র্থ ব্যাচ, ঢাবি।

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

ব্রেকিং নিউজ: